• 10 Feb, 2026

শিক্ষা আইন ২০২৬: খসড়া আইন দেখুন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আপনার মতামত জানান

শিক্ষা আইন ২০২৬: খসড়া আইন দেখুন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আপনার মতামত জানান

শিক্ষা আইন ২০২৬ খসড়া প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মতামত পাঠানোর নিয়ম সহজ ভাষায় জানুন এখানে।

শিক্ষা আইন ২০২৬ খসড়া প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মতামত পাঠানোর নিয়ম সহজ ভাষায় জানুন এখানে।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, মানবিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে শিক্ষা আইন ২০২৬ এর খসড়া প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই খসড়া শিক্ষা আইন দেশের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা ও উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে একীভূত কাঠামোর মধ্যে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। শিক্ষা আইন ২০২৬ প্রণয়নের মাধ্যমে নিরক্ষরতা দূর করা, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ আইনের খসড়া সম্পর্কে সাধারণ জনগণ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাই তাদের মতামত জানাতে পারবেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।

শিক্ষা আইন ২০২৬ খসড়া প্রকাশের প্রেক্ষাপট

শিক্ষা একটি দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থায় নানা পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে আইনগত কাঠামো যুগোপযোগী হয়নি। এই বাস্তবতা বিবেচনা করেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় খসড়া শিক্ষা আইন ২০২৬ প্রকাশ করেছে। এই আইনের মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান শিক্ষা আইনগুলোকে আরও সংহত, কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা আইন ২০২৬ মূলত এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকার ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকবে।

শিক্ষা আইন ২০২৬ এর প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের সকল নাগরিকের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। এই আইনে নিরক্ষরতা দূরীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার ঘটানোর কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষা আইন ২০২৬ অনুযায়ী, প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এছাড়া এই আইনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জীবনব্যাপী শিক্ষার ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ জীবনের যেকোনো পর্যায়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত সমন্বিত কাঠামো

খসড়া শিক্ষা আইন ২০২৬-এ প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা ও উচ্চ শিক্ষা এই পাঁচটি স্তরকে সমান গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতদিন এসব স্তর আলাদা আলাদা নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত হলেও নতুন শিক্ষা আইন ২০২৬ একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা এক স্তর থেকে অন্য স্তরে যাওয়ার সময় কম জটিলতার মুখোমুখি হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার মান বজায় রাখার জন্য অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

শিক্ষা আইন ২০২৬-এ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অধিকার ও কল্যাণের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এই আইনের খসড়ায় শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায্য মূল্যায়নের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষা আইন ২০২৬ কার্যকর হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা আইন ২০২৬-এ এই সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই আইনে বলা হয়েছে, লিঙ্গ, ধর্ম, জাতিগত পরিচয় বা শারীরিক সক্ষমতার ভিত্তিতে কোনো শিক্ষার্থী যেন বঞ্চিত না হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরির বিষয়টি শিক্ষা আইন ২০২৬-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়া শিক্ষা আইন ২০২৬-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জীবনব্যাপী শিক্ষার ধারণা। বর্তমান বিশ্বে শিক্ষা শুধু স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। এই আইনে বলা হয়েছে, একজন মানুষ তার পুরো জীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে। শিক্ষা আইন ২০২৬ এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিয়ে কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে।

শিক্ষা আইন ২০২৬ সম্পর্কে মতামত জানানোর সুযোগ

শিক্ষা মন্ত্রণালয় খসড়া শিক্ষা আইন ২০২৬ সম্পর্কে নাগরিকদের মতামত জানতে চেয়েছে। যারা এই আইনের খসড়া পড়ে মতামত দিতে চান, তারা ইমেইলের মাধ্যমে তাদের সুচিন্তিত মতামত পাঠাতে পারবেন। মতামত পাঠানোর শেষ সময় ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল ০৫:০০টা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মতামত পাঠানো হলে তা চূড়ান্ত আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

কোথায় ও কীভাবে মতামত পাঠাবেন

শিক্ষা আইন ২০২৬ সম্পর্কে আপনার মতামত পাঠাতে হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ইমেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। ইমেইল ঠিকানা হলো: opinion_edu_act@moedu.gov.bd। ইমেইলে আপনার মতামত স্পষ্ট, যুক্তিসংগত ও সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলে তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে। শিক্ষা আইন ২০২৬ নিয়ে আপনার যে কোনো গঠনমূলক প্রস্তাব বা সংশোধনী এই ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো যেতে পারে।

একটি শিক্ষা আইন শুধু সরকারের বিষয় নয়, এটি পুরো জাতির ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। শিক্ষা আইন ২০২৬ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই তথ্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করলে আরও বেশি মানুষ খসড়া শিক্ষা আইন সম্পর্কে জানতে পারবে এবং মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য শিক্ষা আইন প্রণয়নের মূল চাবিকাঠি।

শিক্ষা আইন ২০২৬ বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। এই আইন বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, মান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে একটি কার্যকর শিক্ষা আইন গড়ে তুলতে হলে জনগণের মতামত অত্যন্ত জরুরি। তাই শিক্ষা আইন ২০২৬ এর খসড়া পড়ে আপনার সুচিন্তিত মতামত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এখন সময়ের দাবি।