এমপিও নীতিমালা মাদ্রাসা ২০২৬ প্রকাশ
মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালা ২০২৬ প্রকাশিত। এমপিওভুক্তি শর্ত, শিক্ষক যোগ্যতা, জনবল কাঠামো ও পাসের হার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানুন।
এমপিও স্কুল-কলেজ শিক্ষকের বকেয়া বেতন পেতে EFT বিল সাবমিট করার নিয়ম, সময়সীমা ও করণীয় সম্পর্কে সহজ ভাষায় সম্পূর্ণ গাইড।
এমপিও স্কুল-কলেজ শিক্ষকের বকেয়া বেতন দীর্ঘদিন ধরে দেশের বহু শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। নিয়মিত দায়িত্ব পালন করার পরও অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতা, তথ্যের ভুল কিংবা সিস্টেম আপডেটের কারণে বেতন ও উৎসব ভাতা সময়মতো পাওয়া যায় না। এই পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সর্বশেষ নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে বকেয়া বেতন দ্রুত ও সঠিকভাবে শিক্ষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া যায়। এই লেখায় এমপিও স্কুল-কলেজ শিক্ষকের বকেয়া বেতন পেতে কী করতে হবে, কোন সময়ের মধ্যে করতে হবে এবং কীভাবে করতে হবে সব কিছু সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
বর্তমানে এমপিও স্কুল-কলেজ শিক্ষকের বকেয়া বেতন সংক্রান্ত আবেদন ও বিল সাবমিটের বিষয়টি পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। তাই সঠিক তথ্য জানা ও সময়সীমা মেনে কাজ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
Table of contents [Show]
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, যেসব এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বা উৎসব ভাতা বকেয়া রয়েছে, তাদের জন্য নতুন করে EFT বিল সাবমিট করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই বিল সাবমিট করার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বকেয়া বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে উদ্যোগ নিয়ে বিল সাবমিট করতে হবে। শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল সাবমিট না করলে পরবর্তীতে বকেয়া বেতন পেতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
EFT বা Electronic Fund Transfer হলো এমন একটি ডিজিটাল পদ্ধতি, যার মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন-ভাতার টাকা পাঠানো হয়। বর্তমানে আইবাস++ সিস্টেমের মাধ্যমে এই EFT প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।
১ জানুয়ারি ২০২৫ সাল থেকে স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা EFT-এর মাধ্যমেই দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আগের মতো চেক বা অন্যান্য জটিল পদ্ধতির প্রয়োজন নেই। তবে যেসব ক্ষেত্রে তথ্যগত সমস্যা ছিল, সেসব কারণে অনেকের বেতন আটকে গেছে, যা এখন নতুন করে বিল সাবমিটের মাধ্যমে সমাধান করা হচ্ছে।
শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত যেসব মাসের বেতন বা উৎসব ভাতা বকেয়া রয়েছে, সেসব মাসের জন্য আলাদা আলাদাভাবে বিল সাবমিট করতে হবে।
একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, প্রতিটি মাসের বিল আলাদা হিসেবে গণ্য হবে। একটি বিল সাবমিট করলেই সব মাসের বকেয়া একসঙ্গে পরিশোধ হবে এমন ধারণা সঠিক নয়। এজন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সতর্কভাবে প্রতিটি বকেয়া মাস যাচাই করে বিল সাবমিট করতে হবে।

যেসব এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান। তবে শিক্ষক হিসেবেও পুরো প্রক্রিয়াটি জানা জরুরি, যাতে প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেন।
প্রথমে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে EMIS সিস্টেমে প্রবেশ করতে হবে। এরপর MPO-EFT মডিউলে নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। সেখানে বকেয়া মাসগুলো নির্বাচন করে প্রতিটি মাসের জন্য পৃথকভাবে EFT বিল সাবমিট করতে হবে।
এই বিল সাবমিটের সময় শিক্ষক-কর্মচারীর নাম, পদবি, এমপিও ইনডেক্স, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বকেয়া বেতন সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন আগে বন্ধ ছিল শুধুমাত্র NID বা ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য ভুল বা Invalid থাকার কারণে। শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের সমস্যার সমাধান করে যাদের তথ্য সংশোধন করা হয়েছে, তাদের জন্যও এখন বকেয়া বেতন পাওয়ার সুযোগ চালু করা হয়েছে।
যেসব ক্ষেত্রে আগে EFT বিল সাবমিটের অপশন পাওয়া যাচ্ছিল না, সেসব ক্ষেত্রেও এখন অপশন উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে তথ্য সংশোধনের পর আটকে থাকা বেতনও এখন নিয়ম মেনে বিল সাবমিট করলে পাওয়া যাবে।
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে যদি বকেয়া বিল সাবমিট না করা হয়, তাহলে বেতন প্রাপ্তির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের বাইরে বিল সাবমিট করলে তা আলাদাভাবে বিবেচিত নাও হতে পারে।
এ কারণে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদেরও সচেতন থাকতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হতে হবে যে বকেয়া বিল সঠিকভাবে ও সময়মতো সাবমিট করা হয়েছে।
এমপিও স্কুল-কলেজ শিক্ষকের বকেয়া বেতন একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষা অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন সঠিক নিয়ম মেনে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে EFT বিল সাবমিট করলে আটকে থাকা বেতন পাওয়ার বাস্তব সুযোগ রয়েছে। এজন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষক-কর্মচারী উভয়েরই সচেতন থাকা প্রয়োজন। সময়মতো সঠিক তথ্য দিয়ে বিল সাবমিট করাই বকেয়া বেতন পাওয়ার একমাত্র কার্যকর উপায়।
মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালা ২০২৬ প্রকাশিত। এমপিওভুক্তি শর্ত, শিক্ষক যোগ্যতা, জনবল কাঠামো ও পাসের হার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানুন।