২০২৫ সালে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ শুরু
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের আবেদন শুরু হচ্ছে ৮ নভেম্বর থেকে। জেনে নিন আবেদন প্রক্রিয়া, বয়সসীমা, যোগ্যতা, পরীক্ষার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা একসাথে।
২০২৫ সালে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ শুরু
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে শনিবার, ৮ নভেম্বর থেকে। দেশের ছয়টি বিভাগে প্রথম ধাপে এই নিয়োগ কার্যক্রম চালু হবে। বিভাগগুলো হলো রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর। এই ছয় বিভাগে মোট ১০,২১৯টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ২১ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন করতে হবে সম্পূর্ণ অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সসীমা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদটি সরকারের ১৩তম গ্রেডের চাকরি। জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী এই পদে বেতন হবে ১১,০০০ থেকে ২৬,৫৯০ টাকা পর্যন্ত।
২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর তারিখে প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স হতে হবে ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর। মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমায় সরকারি বিধি অনুযায়ী ছাড় প্রযোজ্য থাকবে।
প্রার্থীকে অবশ্যই কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের CGPA থাকা বাধ্যতামূলক (৪ স্কেলে ন্যূনতম ২.২৫ বা ৫ স্কেলে ন্যূনতম ২.৮)। শিক্ষাজীবনের কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএ থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
বিবাহিত নারী প্রার্থীরা তাদের স্বামী বা পিতার স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী যেকোনো এক উপজেলাকে নির্বাচন করে আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনে যেটি উল্লেখ করবেন, সেটিই তার প্রার্থীতা নির্ধারণে বিবেচিত হবে।
কোনো প্রার্থী যদি ভুল তথ্য বা মিথ্যা কাগজপত্র জমা দেন, তাহলে তার আবেদন বাতিল হবে এবং পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রার্থীর নিজ জেলা, উপজেলা বা থানা সংক্রান্ত তথ্য ভুলভাবে দেওয়া হলে আবেদন সরাসরি বাতিল হবে। নিয়োগের পর নির্বাচিত প্রার্থীকে নিজ উপজেলা বা শিক্ষা থানার বিদ্যালয়েই চাকরি করতে হবে এবং বদলি সীমিত থাকবে সেই উপজেলা পর্যন্ত।
এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ধূমপান বা মাদক সেবনের অভ্যাস থাকলে সেই প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না।
আবেদন প্রক্রিয়া
আবেদন করতে আগ্রহী প্রার্থীদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণ শেষে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে টেলিটকের মাধ্যমে।
আবেদন ফি: টেলিটকের সার্ভিস চার্জসহ মোট ১১২ টাকা।
আবেদনের সময়সীমা: ৮ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ২১ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
ফরম পূরণের সময় প্রার্থীদের ছবি, স্বাক্ষর ও ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে। সাবমিটের আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ধরন
২০২৫ সালের নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি নতুন বিধিমালা অনুযায়ী হবে। এই পদে লিখিত ও মৌখিক—দুটি ধাপে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
লিখিত পরীক্ষা
লিখিত পরীক্ষায় মোট ৯০ নম্বর থাকবে, সময় নির্ধারিত থাকবে ৯০ মিনিট। পরীক্ষার বিষয়গুলো হলো:
- বাংলা (২৫ নম্বর)
- ইংরেজি (২৫ নম্বর)
- গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান (২০ নম্বর)
- সাধারণ জ্ঞান, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (২০ নম্বর)
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে বাছাই করে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। লিখিত পরীক্ষায় পাস করতে মোট ৫০% নম্বর, অর্থাৎ অন্তত ৪৫ পেতে হবে।
মৌখিক পরীক্ষা
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা হবে ১০ নম্বরের। পাস নম্বর হবে ৫। এখানে প্রার্থীর সাধারণ জ্ঞান, আত্মপ্রকাশ, আচরণ এবং প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কে ধারণা যাচাই করা হবে।
লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি টিপস
লিখিত পরীক্ষায় সফল হতে হলে প্রার্থীদের বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার, প্রাথমিক গণিত, দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির ওপর ভালো ধারণা রাখতে হবে।
বাংলা ও ইংরেজি অংশে অনুধাবন ও ব্যাকরণে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। গণিতে শতাংশ, লাভ-ক্ষতি, গড়, সময় ও কাজ সম্পর্কিত প্রশ্ন বেশি আসতে পারে। সাধারণ জ্ঞানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কার্যক্রম ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
- অনলাইনে আবেদন করার পর Application ID এবং পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করুন।
- আবেদন ফি জমা না দিলে আবেদনটি গ্রহণযোগ্য হবে না।
- ভুল তথ্য দিলে বা একাধিকবার আবেদন করলে তা বাতিল হবে।
- পরীক্ষার সময়সারণি ও সেন্টারের তথ্য পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
প্রার্থীদের জন্য পরামর্শ
প্রাথমিক শিক্ষকতা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি জাতি গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যারা শিশুদের নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন, শিক্ষাকে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত ক্যারিয়ার।
আবেদন করার আগে সব তথ্য যাচাই করে নিন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদ, ছবি ইত্যাদি আগেই প্রস্তুত রাখুন।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
নির্ধারিত অনলাইন ওয়েবসাইটে গিয়ে ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে।
টেলিটকের সার্ভিস চার্জসহ ১১২ টাকা।
২১ থেকে ৩২ বছর পর্যন্ত।
স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি এবং দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের CGPA থাকতে হবে।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে।
২০২৫ সালের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ অনেক তরুণ-তরুণীর জন্য বড় সুযোগ। এটি শুধু চাকরি নয়, সমাজে অবদান রাখার একটি মহৎ পথ। তাই যারা শিক্ষা ভালোবাসেন, শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তারা অবশ্যই এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেন। সঠিক প্রস্তুতি ও আন্তরিক প্রচেষ্টা আপনাকে এনে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।






